Archive for the ‘বিদেশ’ Category

অপরাধী কে? সন্ত্রাসী না সমব্যাথী?

ডিসেম্বর 25, 2012

ঘটনার সূত্রপাত গতকাল। ব্রেকিং নিউজ হিসাবে সব টিভি চ্যানেল প্রচার করা শুরু করে এক বাংলাদেশী তরুণ ফেডারেল রিজার্ভে বোমা রাখতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আরো সময় গেলে বের হয়ে আসে পুরো ব্যাপারটাই একটা স্টিং অপারেশনের ফসল। রেজয়ানুল নাফিস মার্কিন দেশে এসেছে মাত্র নয় মাস আগে। গত জুলাই মাসে ফেসবুকে তার কমেন্টের সূত্র ধরে তার ওপর নজরদারি শুরু হয়। এই অবস্থায় নাফিস মার্কিন দেশে বোমা হামলা চালানোর উদ্যোগ নিলে এফ বি আই-এর এজেন্ট তাকে নিষ্ক্রিয় বোমা সরবরাহ করে। নাফিস সেই ১০০০ পাউন্ড বোমা ফেডারেল রিজার্ভ (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক ও ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সমতুল্য) -এর সামনে রেখে পাশের একটি হোটেলে বসে তাকে দুর-নিয়ন্ত্রকের সাহায্যে সক্রিয় করার চেষ্টা করে। এই পর্যায়ে বোমাটি ফাটে না এবং মার্কিন এজেন্ট তাকে গ্রেফতার করে মার্কিন আদালতে পেশ করে (গুয়ান্তানামো বে তে পাঠায় নি)।

এই পর্যন্ত ঘটনা কাল অবধি জানা ছিল। যেহেতু নাফিস স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল, তার পরেই আমেরিকায় প্রশ্ন উঠতে থাকে স্টুডেন্ট ভিসা এত সহজে পেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও ছাত্র-ছাত্রীরা শংকিত হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০১ এ টুইন টাওয়ারে হামলা পর থেকে ২০০৫ অবধি আমেরিকায় বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ সিকিউরিটি চেকের মধ্যে দিয়ে যেতে হত। অনেকেই মনে করছেন সেই অবস্থা আবার ফিরে আসতেই পারে, স্টুডেন্ট ভিসা সহ অন্যান্য ভিসা পাওয়াও এর ফলে শক্ত হয়ে যাবে। সমস্যা শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না ভিন্ন ভিন্ন দেশেও বাংলাদেশী নাগরিকদের যাওয়ার সময় অতিরিক্ত স্ক্রুটিনির সম্মুখীন হতে হবে তাও এখনও পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে, নাফিসের পরিবারবর্গ স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় ব্যথিত এবং মানতে নারাজ যে তাদের ঘরের ছেলে এ ধরনের নাশকতামূলক কাজকর্মের সাথে জড়িয়ে থাকতে পারে। আমেরিকাতেও অনেকেই স্টিং অপারেশনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন – তাদের বক্তব্য হল নাফিসের উদ্দেশ্য জানামাত্র তাকে ডিপোর্ট করা উচিত ছিল, তাহলে ঘটনা এতদূর এগোত না, সাজানো ঘটনায় টেররিস্ট ধরে মার্কিন নিরাপত্তার কোনও উন্নতি হবে না।

আজ এসে দেখতে পেলাম পুরোদমে দুই শ্রেণীর মতামত ফেসবুকে চলছে। দুই শ্রেণীর মূল বক্তব্য একই – আমাদের দোষ না, যত দোষ আমেরিকার। প্রথম শ্রেণীর বক্তব্য পুরো ঘটনা সাজানো হয়েছে যাতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত আরো জোরদার করা যায়। আরেকশ্রেণীর বক্তব্য পুরো ঘটনাই সাজানো হয়েছে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে – বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের নামে সন্ত্রাসের ছবি তুলে ধরার জন্যই এই ছক। সবশেষে জানা গেল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মতামতরেখেছেন যে নাফিসের পরিচিতি নিয়ে উনি নিশ্চিত নন, নাফিস বাংলাদেশে বসবাসকারী অবৈধ রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজন হতেও পারেন (যদিও নাফিসের বাবা কি ভাবে ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সে প্রশ্ন ওনাকে করাই অবান্তর)।

দুই ধরনের যুক্তিই আমার কাছে অন্তঃসারশূন্য লেগেছে। প্রথম কথা স্টিং অপারেশন আমেরিকায় অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। এমনকি ভারতেও স্টিং অপারেশনে অনেক মন্ত্রী-আমলা ইতিপূর্বে ধরা পড়েছে। এই ধরনের অপারেশনে অপরাধের “ইন্টেন্ট” বা ইচ্ছা/চেষ্টা আছে এরকম যে কোনও ব্যক্তিকে তার অপরাধ সংঘটনে ছদ্ম-সাহায্য করা হয় যাতে সে কতদূর অবধি অপরাধ করতে পারে সেটা দেখে তাকে হাতে-নাতে ধরা হয়। অনেকেই প্রশ্ন করবেন বাংলাদেশে এ ধরনের স্টিং-অপারেশন কি চলে? এই উত্তরটা আমার সঠিক জানা নেই কিন্তু তৃতীয় বিশ্বে অপরাধের ইন্টেন্ট থাকলে অনেক সময়েই তাকে লক-আপে ঢুকিয়ে পিটিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় যার থেকে স্টিং অপারেশন শতগুণে ভাল। দ্বিতীয় কথা, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ল এন্ড সিকিউরিটির পরিসংখ্যান মতে, সেপ্টেম্বর ১১-র ঘটনার পরে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ১৫৬ টি কেসের মধ্যে ৯৭টিতেই এজেন্টদের ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিফেন্স ল’ইয়ার চেষ্টা করেছে “আসামীকে ট্র্যাপ করা হয়েছে” – এই যুক্তি ব্যবহার করতে, কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই সফল হয়নি। এর থেকে প্রমাণিত যে শুধুমাত্র নির্বাচন আসন্ন বলেই এই অপারেশন চলছে তা নয়, সবসময়েই স্টিং অপারেশন চলছে – তার কনভিকশন রেট ১০০%।

স্টিং অপারেশন যে শুধু “মুসলিমদের সন্ত্রাসী বানানো”-র কাজে ব্যবহার হয়েছে তাও না। কখনও ড্রাগ-পেডলারদের ট্র্যাপে ফেলা হয়েছে, তারা যখন ড্রাগ ডেলিভারি করতে গেছে – পুলিশ হাতেনাতে ধরেছে তাদের। ফেসবুকে অপ্রাপ্তবয়স্ক সেজে বসে থাকা এফ-বি-আই এজেন্ট-এর সাথে যৌণ-সম্পর্কে লিপ্ত হবার প্রচেষ্টার কারণে জাভা প্রোগ্রামিং ল্যানগুয়েজের অন্যতম প্রণেতা প্যাট্রিক নটন (যার লেখা বই আমাদের অনেকেই পড়েছে) ধরা পড়ে শাস্তিও পেয়েছেন। অপরাধ লঘু হবার কারণে অনেক কম সাজা পেয়ে উনি ছাড়া পেয়ে গেছেন বটে কিন্তু স্টিং অপারেশন চালানোর কারণে তার অপরাধ লঘূতর করে দেখানোর প্রচেষ্টা সফল হয় নি। এবং এই ঘটনা ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার আগেই ঘটেছে। সব স্টিং-অপারেশনেই যে “মুসলিমদের সন্ত্রাসী বানানো”-র সফল অপারেশন ঘটে তাও না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্ণিয়ার একটি মসজিদে এক প্রাক্তন ড্রাগ-পেডলারকে এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেয় এফ বি আই। তার কিছুদিনের মধ্যেই মসজিদের অন্য কিছু ব্যক্তি সেই এজেন্টের আচরণ “সন্দেহজনক” বুঝে উল্টে এফ বি আই-কেরিপোর্ট করে। বাধ্য হয়ে ও সমস্যা নেই বুঝে তদন্ত বন্ধ করে দেয় এফ বি আই। আমি আমেরিকান হলে স্পষ্টতই স্টিং অপারেশনের সমর্থন করতাম, কারণ এই ধরনের অপারেশন শুধু বড় জোট গঠন হবার আগেই তাকে ভেঙে দিচ্ছে তাই না, আল-কায়দা সহ জঙ্গী গোষ্ঠীদের মধ্যেও যথেষ্ট “ডাউট” তৈরী করছে, যার ফলে “নিউ রিক্রুট” করার আগে তারা দশবার ভাবছে।

কিছুদিন আগেই মালালা ইউসুফজাই নামে পাকিস্তানী এক বালিকাকে তালেবানী “শিক্ষাব্যবস্থার” সমালোচনা করার কারণে গুলি খেতে হয়েছে। তালিবানী মুখপাত্র ঘটনা স্বীকার করে তার স্বপক্ষে যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তানী সমাজেও ঘটনাটার বেশ নিন্দা শোনা যায়। কিন্তু ওই পর্যন্তই, কিছুদিনের মধ্যেই অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির হয় বাজারে ও পাকিস্তানী মধ্যবিত্ত নির্দ্বিধায় সব দোষ তালেবানের জায়গায় মার্কিন যড়যন্ত্রের ওপর চাপিয়ে দেয়। পাকিস্তানের সমস্যা অশিক্ষিত তালিবানেরা যত, তার থেকে ঢের বেশী গুণে এই সব অর্ধ-শিক্ষিতরা – যারা নিজের দোষ ঢাকতে সব-সময়ে ষড়যন্ত্রের কথা বলে বেড়ান। একই ঘটনা এখন বাংলাদেশেও ঘটছে – যদিও পাকিস্তানের দশায় যেতে অনেক দেরী আছে, কিন্তু অংকুরেই এসব বিনাশ করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

শুরুতেই বলেছি এফ বি আই আজকাল ফেসবুক সহ সোসাল মিডিয়ার ওপর কড়া নজরদারী করছে। সুতরাং এই ধরনের মতামত প্রচার করে বেড়ালে তাদের এই ধারণা বদ্ধমূল হবে যে এই নাফিসের পেছনে অসংখ্যা সমব্যাথী আছে যাদের অনেককেই হাতে বোমা তুলে দিলে তা মার্কিণ দূতাবাসে বা স্টক-এক্সচেঞ্জে আক্রমণ চালাতে দ্বিধা করবে না। নাফিস একা যতটা ভাবমুর্তির ক্ষতি করেছে, তার সমব্যাথীরা সমষ্টিগতভাবে তার বহুগুণ ক্ষতি বয়ে আনবে দেশের ওপর।

শেষটা করার আগে একটা উপায় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে যাই। রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বদলা হিসাবে রামু-উখিয়াতে যারা বৌদ্ধ-হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ চালিয়েছিলেন, সেই কয়েকশ’ উৎসাহীদের সবাইকে হাতে বোমা ধরিয়ে দিলে তাদের মধ্যে কিছু লোক থাকতেই পারে যারা এই বোমা জাপানী বা থাই বৌদ্ধদের মারার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। আবার তাদের মধ্যে দু-একজন এমনও পাওয়া যাবে যারা সত্যি অর্থেই থাইল্যান্ড বা জাপানে যেতে সক্ষম। এই দুইয়ের মিল হয়ে গেলেই কিন্তু সর্বনাশ – বিদেশে গিয়ে বোমা ফাটিয়ে কেউ না কেউ দেশের নাম উজ্জ্বল করে আসবে। সুতরাং, এই ধরনের অপরাধীদের দেশেই জেলে পুরে ফেলা ভাল যাতে বিদেশে গিয়ে তারা ধরা না পড়ে। এদেরকে ধরিয়ে দিন – দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখুন। বিদেশে ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে গেলে দেশের বিচার ও আইন-ব্যবস্থা ভাল করতেই হবে। আইনের শাসনের কোনও বিকল্প নেই।

নাফিসের ওপর অভিযোগ – সরকারী সূত্র

নতুন দেশে এসে

মার্চ 17, 2008

গত সপ্তাহেই আমেরিকায় এসে পৌঁছে গেছি। ব্যাপারটা হল ইন্টারনাল ট্রান্সফার নিয়ে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত – আপাতত এটাই। আমাদের কোম্পানীর নিয়মমত দুবছর কোম্পানীতে থাকলে সেখান থেকে যেকোনো প্রান্তে কাজ করতে যেতে পারে। আর তার জন্য দায়িত্ব সবই কোম্পানীর। তা এরকমই ঝোঁকের বশে চলেই এলাম। আপাতত একাই এসেছি, বৌ পড়ে আছে হায়দ্রাবাদে। তবে কোম্পানী আমার স্থানান্তরনের জন্য অনেক সুবিধা দিচ্ছে। প্রথমত আমার ভিসার, বিমানে আসার ও আমার মালপত্র আনার খরচা (এমনকি আসবাবপত্র) দিচ্ছে। তারপরে, প্রথম দুমাস থাকার জায়গা, এক মাস গাড়িগাড়ি চালানো আমাকে আর আমার বৌকে শেখানোও কোম্পানীর দায়িত্ব। আর আমাকে সবসময় সাহায্য করার জন্য লোকও আছে কোম্পানীতে। আর বন্ধুবান্ধবের সংখ্যাও নেহাত কম কিছু নয়।তাও চলে এসে কেমন একটা একা একা লাগছে। একটা বড় দুই বেডরুমের ঘর পেয়েছি, যাতে একা থাকাটা দুঃসহ মনে হয়। আশেপাশে লোকজনও বিশেষ একটা নেই। ঠান্ডা প্রচন্ড … একটা বড় জোব্বামত জ্যাকেট পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। পায়ে জুতো পরার অভ্যাস আমার কোনোকালেই ছিল না, কিন্তু জুতো না পরলেই জমে যাবো। তাই উপায় নেই। এর ওপর আমি গাড়ি চালাতেও জানি না। এখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আছে ভালই কিন্তু আমাদের অফিসের দিকে কিছু নেই। এখনো মোবাইল আর বাস-পাস পেয়ে উঠিনি। SSN টা না পেলে ক্রেডিট কার্ডও আসবে না – তাই একটা কিছুও কিনতে পারছি না। বাড়িতে ফিরে কাজ কিছু থাকে না, বসে বসে ডিসকভারি চ্যানেল দেখতে হয়।

এরই মধ্যে একটু আধটু করে আমেরিকা চিনছি। পাশাপাশি দুটো দোকান – মানে রিটেল শপ আরকি। দুটোতে দুরকম দাম। আমি প্রথমে আধঘন্টা সার্ভে চালিয়ে তারপরে কিছু কাঁচা সব্জী কিনেই ফেললাম। একটা ইন্ডিয়ান দোকানে গিয়েছিলাম – তা আমার চেনা জিনিসপত্রই কি দামী লাগছে। গড়ে সব জিনিসের দামই অনেকগুণ। আর আমার ওই দামটাকে চল্লিশ দিয়ে গুণ করার বদভ্যাস না যাওয়া অবধি আমাকে মনে হয় মনকে অর্ধভুক্ত করেই রাখতে হবে। একটা জিনিস সস্তা এখানে – সেটা হল দুধ। সুতরাং দুবেলা অনেকটা করে দুধ খাচ্ছি। অনেকটা ভিখারীদের মত মানসিক অবস্থা – দাম কম পরিমাণে বেশী যে কোনো কিছুই কিনে ফেলছি। এই যেমন কালও জল কিনতে গিয়ে শেষে কোল্ড-ড্রিঙ্কস কিনেই ফিরলাম। অফিসে খাবারের দাম বেশ বেশী – তাই বাড়িতে বেশী বেশী করে খেয়ে আসছি। আর অফিসে এসে হ্যামবার্গার খাচ্ছি। এই তো চলছে।মজার ব্যাপার হল এখানে মাসে দুবার মাইনে হয়। এটার জন্য আশা করছি আমি পরের সপ্তাহ থেকে কিছুটা স্বস্তিতে থাকব। কিছু না হোক, পকেটে টাকাকড়ি তো থাকবে। এখন তো দেশ থেকে আনা ডলারে চালাতে হচ্ছে।

ওদিকে ডলারের দাম বাড়ছে, আমি আসার সময় ৩৯ টাকার কম ছিল, এখন আবার ৪০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটা বেশ স্বস্তির খবর। এরপরে শুরু হবে বাড়ি খোঁজা, তারপরে গাড়ি কেনা। সব কিছুই কেমন একটা সুতোয় গেঁথে করে ফেলতে হচ্ছে, কোনোটা বাদ ফেলার কোনো সম্ভাবনাই নেই। অগত্যা … চলছে।

আবার কবে দেশে ফিরব সেটাও ঠিক নেই কিছু – কিন্তু ফিরতে তো হবেই। তাই সে দিকেও একটু আধটু নজর রাখতে হচ্ছে। এখন ছটা বাইশ বেজে গেছে, এতক্ষণে এখানে লোকজনে ফাঁকা হয়ে যায় – লোকে এখানে সকাল ৮টায় এসে ৫টায় বেরিয়ে যায়। এরই মাঝে ৯ই মার্চ এখানে ডে-লাইট সেভিং চালু হওয়ায় ১ ঘন্টা সময় এগিয়ে দিতে হল। তার পর থেকে আমার শারীরবৃত্তীয় ঘড়ি আমাকে ৯টার আগে অফিসে ঢুকতে দেয় না। আবহাওয়া ভাল যেদিন রোদ ওঠে। তবে অর্ধেক দিনেই বৃষ্টিই হয়ে চলে। রোদ উঠলে এখানে থেকে দূরের পাহাড় দেখা যায় – ভিউটা খুব সুন্দর (ক্যামেরা না থাকায় ছবি দিতে পারলাম না)। রাস্তাঘাট ঝকঝকে তকতকে – যেমনটা হওয়া উচিত আরকি। কিন্তু ট্রাফিকের ভয়ে নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে আমাকে অন্তত আধ মাইল ঘুরে আসতে হয়। মাইলের কথায় বলা ভাল – এখানে সবই মাইল, গ্যালন আর ফারেনহাইট। মনে মনে কনভার্সন না করে শান্তি হয় না, মাইলটা নাহয় দু কিলোমিটার ধরে নিই, কিন্তু ফারেনহাইট স্কেলটা খুবই গোলমেলে। আর গ্যালনের জ্বালা তো এখনো সহ্য করতে হচ্ছে না। আমার একটা বন্ধু নতুন হন্ডা সিভিক কিনেছে – সেদিন বলে ২৫ দিচ্ছে মাইলেজ। তা ভাল, আমি মনে মনে হিসাব করতে বসলাম ২৫ মাইল প্রতি গ্যালন হলে সেটা কত কিলোমিটার প্রতি লিটার হবে। এক গ্যালন আবার ৩.৭৮ লিটার। বুঝে দেখুন হিসাবটা কত গোলমেলে।

এর মাঝে একদিন মেল পেলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কিছু অনুষ্ঠান হবে – যাব বলে মেলও করলাম – এখনো কোনো উত্তর নেই। দেখা যাক, যেতে পারলে আমি এটার একটা আপডেট দেব। তা এভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক এখানে আরো কতদিন চালিয়ে দেওয়া যায়। আর না পারলে তো দেশে ফেরার পথ খোলাই আছে। লড়াই হল বেঁচে থাকার আরেক নাম …

দক্ষিণ কোরিয়া বনাম দক্ষিণ এশিয়া

জানুয়ারি 11, 2008

দক্ষিণ এশিয়া গত পঞ্চাশ বছরে কতটা পিছিয়ে গেছে তা সবাই মনে রাখে না। কিন্তু কিভাবে অন্যেরা এগিয়ে গেছে তা সত্যিই বিস্ময়কর।

ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে ৯% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরকম পঞ্চাশ বছর চলতে পারলে দেশ কোথায় পৌঁছতে পারে তা বোঝা যায় এই তুলনায়। বোঝা যায় কিভাবে আমরা নিজেদের ধোঁকা দিয়ে নিজেদেরই ছোটো করেছি – একটা উদাহরণ দিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া এখন এশিয়ার দ্বিতীয় ধনীতম দেশ (বড় দেশগুলোর মধ্যে)। দেখা যাক তারা কিভাবে এত ধনী হয়ে গেল।

ছবিতে দেখুন নিতান্ত ষাটের দশক অবধি দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আমাদের বিশেষ একটা পার্থক্য ছিল না। কিন্তু ১৯৬২ থেকে ১৯৮৯ অবধি তাদের অর্থনীতি ৮% হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে তাদের মাথাপিছু গড় আয় মাত্র ৮৭ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৮৩০ ডলারে।

একটা প্রবন্ধে সেদিন পড়লাম ওদের ‘সাক্সেস স্টোরি’। মূল কারণ বলা হয় চারটি –
১) ভাল সরকার, শিক্ষা আর পরিকাঠামোমুখী নীতি।
২) জাপান ও আমেরিকার সাহায্য।
৩) শিল্পক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার
৪) শক্তিশালী প্রাইভেট সেক্টর

আমার এতসব লেখার লক্ষ্য একটাই। যারা মনে করেন পুঁজীবাদী ব্যবস্থা খারাপ আর এই ব্যবস্থায় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটে না, তারা কিভাবে এর ব্যাখ্যা দেবেন? মানুষের উন্নতি কি অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া সম্পূর্ণ হয়?

তাছাড়া আমাদের কলোনিয়াল হ্যাংওভারের কারণে আমরা বিদেশী পুঁজী ভয় পাই। দক্ষিণ কোরিয়া বিদেশ থেকে পুঁজী বা প্রযুক্তি দুই-ই নিয়ে দেশ গঠন করেছে। তাতে তাদের কি সার্বভৌমত্বের ক্ষতি হয়েছে?

মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশগুলোর নীতি-নির্ধারকের সেটা মাথায় রেখে নীতি নির্ধারণ করেন না। কবে যে সুদিন আসবে এখানে …

বেনজির হত্যা

জানুয়ারি 11, 2008

(লেখার মতামত আমার ব্যক্তিগত – ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটির সদস্য হিসাবে ও পাকিস্তানে সংবাদপত্র নিয়মিত পড়ার কারণে আমার নিজস্ব ধারণা থেকে লেখা)

আমার মনে হয়না তালিবানি জঙ্গী ছাড়া বেনজিরের হত্যা আর কেউ করেছে – পর্দার পেছনেও আর কারো স্থান পাওয়াও মুশকিল। মুশারফ যতই বলুন, এই ঘটনায় সবথেকে বড় ক্ষতি তার নিজেরই হয়েছে – তাই আমার মনে হয়না এত বোকার মত কাজটা করিয়েছে।

তালিবানিরা আগে থেকেই ঘোষণা করেছিল যে মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান তারা কিছুতেই মেনে নেবেন না কারণ তা ইসলাম-বিরোধী। আর বেনজির দেশে ফেরার চেষ্টা করলে তাকে একই কারণে হত্যা করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট হলে বেনজিরের জয় সুনিশ্চিত ছিল। সুতরাং ওই জঙ্গী-গোষ্ঠীরাই এটা সরাসরি কারো মদত ছাড়াই এই কাণ্ড করিয়েছে বলে আমার ধারণা।

অনেকেই বলে থাকতে পারেন যে এই গোষ্টীগুলোর এত দাপট কি ভাবে যদি না এদের পেছনে কারো মদত থেকে থাকে। মদতের কথায় পরে আসা যেতে পারে, তবে আপাতত বলে রাখি এদের শক্তি সম্পর্কে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিছুদিন আগেই খবরে প্রকাশ যে বেশ কিছু পাকিস্তানি আর্মি কম্যান্ডারও এদের পেছনে আছে। এমনকি, বার-দুয়েক, পাকিস্তানি আর্মির সৈন্য নিজে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে তার সহকর্মীদের মেরে ফেলার ঘটনাও সামনে এসেছে। সুতরাং, জন-সমর্থনের প্রশ্নে এদের খুব একটা সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। এর পরে আসে, অস্ত্র-সমর্থনের প্রশ্ন। যেহেতু পাকিস্তানি আর্মির একাংশ এদের সাথে জড়িত তাই সে বিষয়েও এদের কোনো সমস্যা নেই।

উত্তর-পূর্ব পাকিস্তান আর বালুচিস্তানে আছে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত এক দল তালিবানি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তান সরকার থেকে এই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা কখনই শাসন করার চেষ্টা করা হয়নি। ফেডারাল ট্রাইবাল ল এর সমর্থনে, এই ওয়াজিরিস্তান অঞ্চল সর্বদাই “স্বাধীন” ছিল। তাই যখন পাকিস্তান আর্মি তাদের অঞ্চলে জঙ্গী খোঁজার নামে হামলা শুরু করল তারা সেটাকে তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করা শুরু করল। শুধু তাই নয়, ৯/১১ পরবর্তী পাকিস্তানে তিন ধরনের দল তৈরী হল। এক দল দেশ থেকে যে কোনো মূল্যে তালিবান ও জঙ্গীবাদ দূর করা পক্ষে, একদল বাস্তবসম্মত ভাবে আমেরিকার সাথে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করত আর শেষ আরেকদল যে কোনো মূল্যে আমেরিকা বিরোধিতা করতে প্রস্তুত। তাদের সমর্থন আর বিপক্ষের দল তৈরী হল পাকিস্তানে আর শুরু হল আইডিওলজিকাল কনফ্লিক্ট। যেহেতু পাকিস্তানে লোকের হাতে বন্দুকের অভাব নেই, তাই অচিরেই এই বিবাদ গলা ছেড়ে বন্দুকের আওয়াজে নেমে এল। বেনজির প্রথমদলের সমর্থক ছিলেন বলে, এই বিবাদ-কেই শর্ট টার্মে বেনজিরের হত্যার কারণ বলে চিহ্নিত করা যায়।

এবারে আসা যাক তুলনামূলক গূঢ় কারণে। আমি প্রথমে আমেরিকার ভূমিকায় আসি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পেছনে লাগার জন্য আমেরিকা আশির দশকে ব্যবহার করত এই তালিবানিদের। আমেরিকা থেকে আসা ও রাশিয়ানদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রবলে এরা বলীয়ান – সাথে আছে গরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং যা আমেরিকানরা দিয়ে গেছে। আপাতদৃষ্টিতে এদের মৌলবাদী বলে মনে হলেও এরা এরকম মৌলবাদী ছিল না – আমেরিকা আর সি-আই-এ ‘নাস্তিক’ কমিউনিস্টদের আটকানোর জন্য যে ট্রেনিং ক্যাম্পগুলো তৈরী করেছিল, তাতে এদের মৌলবাদীত্বে দীক্ষিত করা হয়েছে। আমার এই ধারণার কারণ ভারতে (বিশেষত কোলকাতায়) বসবাসরত আফগান আর পাশতুনরা। এদের মধ্যে একজনও কোনো মৌলবাদী ধারণায় উদ্বুদ্ধ নয় – বরং শান্তিপূর্ণ ভাবে জীবন-যাপণ করে – আর দশজন বাঙালীর মতই। একই জনগোষ্ঠীর লোকে যদি আরেক জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে, তবে মূল জনগোষ্ঠীকে কিভাবে মৌলবাদী বলা চলে?

সবশেষে আসা যায় পাকিস্তানের ইতিহাসের দিকে। স্বাধীনতার পর থেকেই যেহেতু (পশ্চিম) পাকিস্তান প্রায় সংখ্যালঘু-শূন্য হয়ে পড়ে – তাই রাজনীতিকরা দলাদলি করার জন্য আবার বেছে নেন ধর্মকেই। শুরু হয় কে কতটা বেশী ধর্মপরায়ণ – তার ভিত্তিতে দলাদলি। প্রথম ধাপ হিসাবে দলাদলি শুরু হয় আহমদিয়া (কাদিয়ানি) দের নিয়ে। সময় যত এগোয়, কাদিয়ানিরা একরকম এক-কোণে আশ্রয় নেয়। এদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন জিয়া। উনি, আইন করে কাদিয়ানিদের মসজিদ বানানো বন্ধ করে দেন, আর পাকিস্তানের ইসলামিক পাসপোর্ট পাবার জন্য কাদিয়ানি নবীকে ‘ইমপোস্টার’ হিসাবে ডিক্লারেশন দেওয়া বাধ্যতামূলক করে দেন (বলাই বাহুল্য – এখনো এই আইনগুলোর পরিবর্তন হয়নি)। এই জিয়ার আমলেই পাকিস্তানের আইডিওলজিকাল পার্টিশন নিশ্চিত হয়। কাদিয়ানিদের কফিনে পেরেক পোঁতা শেষ হলেও দলাদলি শেষ হয় না। রাজনীতিকরা শুরু করেন পরবর্তী পার্টিশন – সূফী বনাম তালিবানি। একই সময়ে, আশির দশকে প্রচুর আফগান পাকিস্তানে রিফিউজি হিসাবে চলে আসে, যারা এই তালিবানি ঘরাণাকে পাকিস্তানে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

একরকম ভাবে দেখলে আমার ব্যক্তিগত মতে, পাকিস্তানে এই আইডিওলজিকাল পার্টিশন হবারই ছিল। পারিপার্শ্বিকতা তাকে হয়ত ত্বরান্বিত করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করলে সব সময়েই নিজেকে বেশী ধার্মিক দেখিয়ে বেশী সুবিধা অর্জনের প্রচেষ্টা জনগণের মধ্যে দানা বাঁধে। আর জনগণ যদিও বা দূরে থাকতে চায়, তাদের ব্যবহার করার মত রাজনীতিকের অভাব হয় না কখনই। আর সেই আইডিওলজিকাল পার্টিশন এখন পূর্ণোদ্যমে একের পর এক প্রাণহন্তারক হামলার আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে – এ তো হবারই ছিল।

এখন যদি মুশারফ সরে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রও আসে, আমার মনে হয়না একদিনে সমস্যার সমাধান হবে। অন্তত, বিশ বছর গণতন্ত্রে থাকলে যদি বা কিছু পরিবর্তন হয়। গণতন্ত্রের একটা সুবিধা হল এতে একটা প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যায় যাতে লোকে ধৈর্য ধরতে শেখে, আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ-মীমাংসা শেখে আর দেশের অন্যপ্রান্তে জন-মতামত সম্পর্কে ধারণা করতে শেখে। এই তালিবানি জঙ্গীরা যদি জানত যে দেশের অধিকাংশ মানুষ তাদের আসলে পছন্দ করে না, তবে হয়ত অনেকেই অস্ত্রের পথ ছেড়ে দিত – ব্রেনওয়াশ করাও শক্ত হত। লোকে সামরিক শাসনে ধৈর্য না হারিয়ে ভোটের জন্য ৫ বছর অপেক্ষা করতে শিখত। তাই পাকিস্তানের এই বিবাদ থেকে মুক্তির একটাই পথ – গণতন্ত্র।

ভারত-পাকিস্তান যৌথ সমীক্ষা

জানুয়ারি 11, 2008

কিছুদিন আগে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ভারত-পাকিস্তান যৌথ সমীক্ষা চালিয়েছিল কয়েকটি সংস্থা। এদের মধ্যে পাকিস্তানের ডন নিউস ও ভারতের আই-বি-এন মিলে চালানো সমীক্ষার ফলাফল মিলেছে। অধিকাংশ ব্যাপারে দুদেশের শহুরে জনগণ একমত হলেও কিছু কিছু ব্যাপারে আলাদা মানসিকতা থেকেই যায়। দুদেশের লোকজনই উল্লেখযোগ্যভাবে গণতন্ত্রের সমর্থন করেছেন। আবার কাশ্মীর প্রশ্নে তাদের মত আলাদা।

সমীক্ষার সংক্ষিপ্ত তালিকা পাওয়া যাবে ডন-এর সাইটে। এর সাথে আছে কিছু বিশ্লেষণও। সমীক্ষার বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে কাশ্মীর প্রসঙ্গে। আছে জম্মু ও শ্রীনগরের মতের অমিল, সেইসঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের ভোটদাতাদের মতানৈক্য। এরপরে আসে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। সম্পর্ক ভাল করার আগ্রহ থাকলেও পাশের দেশে ঘুরতে যাবার বিশেষ আগ্রহ দেখা যায় না ভোটে। মজার কথা, আমেরিকাকে কেউই ভাল চোখে দেখে নি। গণতান্ত্রিক দলগুলোতে আস্থা না থাকলেও আর্মির ওপর আস্থায় দুদেশের মতামত আলাদা। পার্লামেন্টে আস্থাও ভারতীয়দের বেশী বলেই দেখা যায়।

সবশেষে আসে ক্রিকেট ও বলিউড। ভারতে সবচেয়ে জনপ্রিয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আফ্রিদি, এর পরে আসে আক্রম ও শোয়েব আখতার। পাকিস্তানে জনপ্রিয় ক্রিকেটার শচিন ও তারপরে সৌরভ ও দ্রাবিড়। চিত্রতারকাদের মধ্যে সবার আগে আসে শাহরুখ, তারপরে সলমান ও শেষে অমিতাভ। নায়িকাদের মধ্যে পছন্দের তালিকায় আছেন ঐশ্বর্য, রানী ও কাজল।

পড়ে দেখতে পারেন পুরো রিপোর্টটা