Archive for the ‘খেলা’ Category

প্রিমিয়ার লিগের সাথে

জানুয়ারি 11, 2008

অনেকদিন হল আমি কয়েকটা টপিকের বাইরে পোস্ট দিচ্ছি না। তাই এবার মনে হল অন্য কোনো টপিকে পোস্ট দিয়ে দেখি।

ফুটবল আমার প্রথম প্রেম। খেলা কাজের চাপে পড়ে ছেড়ে দিতে হলেও খেলা দেখা কি আর ছাড়তে পারি? তাই সপ্তাহান্তে সন্ধ্যায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শুরু হলে বসে যাই টিভির সামনে। খেলা দেখে দেখে আর পর্যালোচনা শুনে এখন মুখস্ত হয়ে গেছে টিম আর টিমের প্লেয়ারদের নাম।

এই সিজনে দুটো টিম দেখার মত খেলছে – একটা স্যার আলেক্স ফার্গুসনের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, আরেকটা আসেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল। আর্সেনালের অত নামীদামী প্লেয়ার নেই, কিন্তু আছে কিছু উদ্যমী আর খেটে খেলা মজুর – ফ্যাব্রেগাস, হ্লেব, ভ্যান পারসি বা আদেবায়োর। আর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সম্পদ হল শিল্পী পর্তুগীজ প্লেয়ার ক্রিসচিয়ানো রোনাল্ডো, সামনে থাকে রুনি আর আর্জেন্টাইন টেভেজ। আপাতত আর্সেনাল একটি ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট অর্জন করেছে, গোল ব্যবধানও সমান। সময় যত এগোচ্ছে, প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে।

এইতো সেদিন এদের নিজেদের ম্যাচ ছিল এমিরেটস স্টেডিয়ামে। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার মধ্যে খেলা ২-২ গোলে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হল। নিজের গোলে বল ঢুকিয়ে খেলায় গোলের সূত্রপাত করেছিলেন যে ফরাসী ডিফেন্ডার গালাস, সেই খেলার শেষ মিনিটে গোল শোধ করে খেলায় সমতা ফেরান। ম্যাঞ্চেস্টারের খেলার মূলধারা হল ভাল ডিফেন্স আর দ্রুত প্রতি-আক্রমণ। আর্সেনালের খেলা ছন্দ-নির্ভর।

পিছিয়ে পড়ছে আর শক্তিশালী টিমগুলো – লিভারপুল আর চেলসী। চেলসী শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে হারাতে পারেনি এভার্টনকেও। খেলা ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। তবে আনন্দের খবর চেলসী সমর্থকদের জন্য যে ড্রগবা আস্তে আস্তে নিজের পুরোনো ফর্মে ফিরছেন – সাথে ফর্মে আনছেন রাইট-ফিলিপ্স, কালু আর জো কোলকেও। লিভারপুলের কোচের স্ট্রাটেজি আমি বিশেষ কিছু বুঝিনা। প্রতি ম্যাচে কিছু না কিছু পরিবর্তন দেখি টীমে। বেঞ্চে বসে আছেন হ্যারি কিউল বা টোরেস এর মত প্রতিভাবানেরা। তাই লিভারপুলের ধারবাহিকতার অভাব দেখা যায়। একটা ম্যাচে ৮-০ জেতার পরের ম্যাচে ঘরের মাঠে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সাথে ০-০ ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

তবে আশাতীত ভাল খেলছে কয়েকটি টিম, যেমন – ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, পোর্টস্মাউথ আর ব্ল্যাকবার্ন। ম্যাঞ্চেস্টার সিটিই বছরের শুরুতে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল। খেলার বৈশিষ্ট্য হল জমাট ডিফেন্স আর নতুন কোচ এরিকসনের স্ট্র্যটেজি। এরিকসন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন কোচ হিসাবে পরিচিত। সিটির টিমের দুই ফুসফুস হলেন টিমের দুই মিডফিল্ডার – পেট্রভ আর ব্রাজিলিয়ান এলানো। এলানো এর মধ্যেই প্রিমিয়ার লিগে সাড়া জাগিয়েছেন তা দূর থেকে শটে গোল করার ক্ষমতার জন্য।

এখনো অবধি এ সিজনের সবথেকে ভাল লেগেছে টটেনহ্যাম বনাম আস্টন ভিলার ম্যাচটি। ম্যাচটি শেষে ৪-৪ গোলে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হলেও শেষ অবধি টানটান উত্তেজনা ছিল। ৫৯ মিনিটের মধ্যে টটেনহ্যাম ঘরের মাঠে যখন ১-৪ গোলে পিছিয়ে, অনেক সমর্থকই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনটি গোল করে ম্যাচটি ড্র রাখতে সক্ষম হয়। টটেনহ্যামের মত নামকরা ক্লাবের সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে, রেলিগশন জোনের মাত্র ৩ পয়েন্ট ওপরে আছে তারা। রেলিগশন জোনে ঘোরাফেরা করছে ডার্বি, উইগান আর বোল্টন – আশেপাশেই আছে মিডলসবোরো, সান্ডারল্যান্ড আর বার্মিংহ্যাম সিটি। এই দলগুলোর কোনো ভাল স্ট্রাইকারও দেখিনা যে গোল করে ম্যাচ জেতাতে পারে।
আমার প্রিয় দল আর্সেনাল লিগ জিতুক এটাই আমার ইচ্ছা। খেলা ভাল দেখি সেটাও একটা লক্ষ্য। আরেকটা উদ্দেশ্য হল ফ্যান্টাসি লিগে প্রচুর পয়েন্ট জেতা। সেটা কি তা নিয়ে আলোচনা করা যাবে পরের লেখাতে।

Advertisements