Archive for the ‘ইতিহাস’ Category

অ্যাডাম স্মিথের দৃষ্টিতে উপনিবেশ-অর্থনীতি

ডিসেম্বর 25, 2012

ঔপনিবেশিকতা নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে দেখলাম বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের বই দ্য ওয়েলথ অব নেশনশে (১৭৭৬) ঔপনিবেশিকতা ও তার অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা আছে। অ্যাডাম স্মিথের লেখা বইটিকে আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা যায়। বইতে কলো্নী সংক্রান্ত অর্থনীতি নিয়ে আলোচনার সময় মাথায় রাখা দরকার যে অ্যাডাম স্মিথ ঔপনিবেশিকতার তীব্র বিরোধী ছিলেন। কিন্তু তার বিরোধিতা মানবিকতা বা অধিকারের প্রশ্নে নয়, নিতান্তই অর্থনীতির প্রশ্নে। যদিও তার বইতে তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে বরাবর দায়ী করেছেন বাংলার দুরাবস্থার জন্য, কিন্তু তার অর্থনীতির ফোকাস থেকে সরে যান নি। তিনি বইতে দেখানোর চেষ্টা করেছেন ঔপনিবেশিকের জন্যও কলোনী-ব্যবস্থা লাভজনক নয় ও দীর্ঘমেয়াদে যে দেশগুলো ঔপনিবেশিক হবে না, তারা অন্যেদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

উপনিবেশের সাথে ইউরোপের ব্যবসা দু’ভাবে দেখছেন স্মিথ। প্রথমটা শুধুমাত্র ব্যবসার সম্পর্ক – যাতে ইউরোপীয়রা লাভ করছে। বর্তমান উপনিবেশেরা কেউই খুব একটা শিল্পোন্নত নয়, তাই সেই দেশগুলো থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করা ও শিল্পজাত পণ্য বিক্রি করার কাজটা ইউরোপীয়রা ভাল-ভাবেই করছে। এই ব্যবসায় লাভ এতটাই হচ্ছে যে তার ফলে মুদ্রার অপর পিঠ দেখা হচ্ছে না। মুদ্রার অপর পিঠ ক্ষতিকর – সেটা হল একচেটিয়া বাণিজ্য। একচেটিয়া বাণিজ্য ঔপনিবেশিকের জন্য ক্ষতিকর। কারণ কি?

স্মিথের মতে ঔপনিবেশিকেরা একে অপরের সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই একচেটিয়া বাণিজ্যের সুবিধাটুকু হারিয়ে ফেলে। ইংল্যন্ডের পক্ষে তুলো আনা সহজ বলে ইংল্যান্ড টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে বেশী দাম চাইতে যেমন পারে, তেমন ইন্দোনেশিয়ার মালিক ডাচেরা মশলার জন্য বেশী দাম চাইছে। উভয়ের কারও সকল সম্পত্তির ওপর যেহেতু অধিকার নেই, তাই স্থানীয় ভোগের ক্ষেত্রে ছাড়া ইউরোপে রপ্তানীর ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান মোটের ওপর শূন্যে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এ তো গেল প্রথম সমস্যা। এর পরের সমস্যা হল শিফট অব ক্যাপিটাল বা মূলধনের সরণ। স্মিথের মতে মূলধনের স্বভাবই হল কম লাভজনক ব্যবসা থেকে সরে বেশী লাভজনক ব্যবসায় চলে যাওয়া। ঔপনিবেশিকের ঘরোয়া বাজারের মূলধন ইউরোপীয় বাণিজ্য থেকে সরে কলোনী বাণিজ্যে চলে যাবে – যা দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ইউরোপীয় বাণিজ্যে দুর্বল করে দেবে। যদি ভবিষ্যতে কখনো কলোনী-বাণিজ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাহলে ঔপনিবেশিকের অনেক পরিশ্রম করে গড়ে তোলা কলোনী বাণিজ্য থেকে মূলধন আবার সরিয়ে আনা শক্ত হবে। এই একচেটিয়া বাণিজ্য বিষয়ে স্মিথের একটা পর্যবেক্ষণ ও একটা ভবিষ্যতবাণীর উল্লেখ না করে পারছি না। স্মিথের মতে ইউরোপে নৌশক্তি ও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে অগ্রণী ছিল স্পেন ও পর্তুগাল। সেইমত তারাই প্রথম কলোনী-বাণিজ্যে নামে। কিন্তু স্মিথের মতে, দক্ষিণ আমেরিকাকে কলোনী বানাবার পরে এই দুই দেশের বাণিজ্য এদের উপনিবেশের পথ ধরে মূলত কৃষিভিত্তিক হয়ে পড়ে। তাই ধীরে ধীরে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প মার খাবে ও ফলশ্রুতিতে নৌশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যদিকে গরিব ডেনমার্ক (তৎকালীন ডেনমার্ক ও নরওয়ে) বা সুইডেন (বর্তমানের সুইডেন ও ফিনল্যান্ড) – যাদের অর্থনীতি বাকিদের তুলনায় দুর্বল বা জার্মানী – যার নৌশক্তি সীমিত – তারা তাদের মূলধনের সর্বোত্তম ব্যবহারে (ইউরোপমুখী বাণিজ্য) মনোযোগ দেবে ও কখনও কলোনী বাণিজ্য বিপন্ন হলে এরা ঔপনিবেশিকদের তুলনায় অনেক দ্রুত উন্নতি করবে।

আমি ১৮৭০ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাথাপিছু গড় আয়ের সাথে বর্তমানের বিভিন্ন দেশের গড় আয়ের একটা তুলনা দিলাম। তালিকা (ব্র্যাকেটে র‌্যাঙ্ক) থেকে স্পষ্ট, স্পেন ও পর্তুগাল তাদের প্রাথমিক ঔপনিবেশিক সুবিধা হারিয়েছে সেই উনিশ শতকের গোড়ায় লাতিন আমেরিকার ওপর থেকে দখল উঠে যাওয়ায়। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও হল্যান্ড আছে মাঝে আর ওপরে আছে সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্ক – ঠিক যেমনটা বলেছিলেন স্মিথ। জার্মানীর ক্ষেত্রে বিষয়টা ততটা খাটে নি, হয়ত পূর্ব-জার্মানীর কারণে। ১৭৭৬ সালে বসে উপনিবেশ-উত্তর পৃথিবীর অর্থনীতি সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করার মত একটা শক্ত পরীক্ষায় স্মিথ উত্তীর্ণ। আগের লেখায় আমি দেখিয়েছিলাম উপনিবেশ-উত্তর যুগে উপনিবেশগুলোর তুলনায় ঔপনিবেশিকেরা অনেক দ্রুত উন্নতি করেছে। আসলে, যারা উপনিবেশ-ব্যবসায় নামে নি অথচ মুক্ত-বাণিজ্যে নাম লিখিয়েছে, তারা আরও তাড়াতাড়ি উন্নতি করেছে।

ব্রিটেন – ৩১৯০(১), ৩৭৭৮০(৭)
স্পেন – ১২০৭(৭), ৩০৯০০(৮)
পর্তুগাল – ৯৭৫(৯), ২১২৫০(৯)
ডেনমার্ক – ২০০৩(৩), ৬০৩৯০(২)
নরওয়ে – ১৩৬০(৬), ৮৮৮৯০(১)
সুইডেন – ১৬৬২(৫), ৫৩২৩০(৩)
নেদারল্যান্ডস – ২৭৫৭(২), ৪৯৭৩০(৪)
ফিনল্যান্ড – ১১৪০(৮), ৪৮৪২০(৫)
জার্মানী – ১৮৩৯(৪), ৪৩৯৮০(৬)

তবে এ সব সত্ত্বেও স্মিথ বলেছেন, একচেটিয়া বাণিজ্যের ফলে আপেক্ষিক ক্ষতির তুলনায় হয়ত বর্তমান কলোনী-বাণিজ্য বস্তুটা বেশী লাভজনক। কিন্তু আসল লোকসান অন্যখানে। এই একচেটিয়া বাণিজ্য চালিয়ে যেতে গেলে যে সামরিক শক্তিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় সেই খরচা একচেটিয়া বাণিজ্য থেকে আসা লাভের তুলনায় অনেক বেশী। ১৭৩৯ সালে শুরু হওয়া ইঙ্গ-স্প্যানিশ যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেছেন – এটা যেন গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া দুইদল দস্যুর লড়াই। লড়াই শেষে উভয়েই ভাগ-বাঁটোয়ারায় সম্মত হল বটে – কিন্তু ততক্ষণে তাদের অনেক শক্তিক্ষয় হয়েই গেছে। মুক্ত-বাণিজ্যের পরিবর্তে একচেটিয়া বাণিজ্যে যে বাড়তি লাভ হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশীই ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে সাম্রাজ্য বজায় রাখতে। এরপরে উপনিবেশগুলো চিরকাল ঔপনিবেশিক শাসন মেনে নেবে এমনটা ভাবারও কোনো কারণ নেই, তাদের স্বাধীনতা ঘোষণার সাথেই ঔপনিবেশিকদের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হবে। শুধু এখানেই শেষ না, এই বাড়তি সামরিক শক্তি ও সাম্রাজ্য বজায় রাখতে যে দক্ষ মানব-সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে তারা অন্য কোনো অধিকতর উৎপাদনশীল খাতে (স্মিথের মতে ম্যানুফ্যাকচারিং) সময় বিনিয়োগ করতে পারত। সবশেষে, একচেটিয়া বাণিজ্য ও তার নিমিত্ত সামরিক শক্তি – এই দুই খাতে বেশী মনোযোগী হওয়ায় সরকারের পক্ষে নাগরিকদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। লবি অব শপ-কিপার্স কার্যত সরকার চালাচ্ছে – দেশের অন্যান্য শ্রেণীর মানুষ সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঔপনিবেশিকতার ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরার পরেও স্মিথের ব্যাখ্যা থেমে থাকে নি। ইংল্যান্ড কি তাহলে উপনিবেশগুলোকে স্বাধীন করে দেবে? স্মিথ বলেছেন – ব্যাপারটা অত সহজ না। কার্যত এটাই আদর্শ হলেও ইতিহাসে কোনো দেশই স্বেচ্ছায় কোনো দেশই সূচ্যাগ্র মেদিনীও ছেড়ে দেয় নি, তার জন্য যত ক্ষতি বা কষ্টই স্বীকার করতে হোক না কেন। কারণ এই বিষয়টা দেশের গৌরবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে, আর সাধারণ মানুষ চাইলেও দেশের শাসক শ্রেণীর কাছে দেশের গৌরব বিষয়টার মূল্য অপরিসীম। আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধিতেও বুঝেছি যে সাম্রাজ্যবাদের মূলকথা আসলে এইখানেই। নিজের অধীনস্থ মানুষ বা অঞ্চলের পরিমাপের মাধ্যমে মানুষের শূন্য আত্মগৌরবের জন্ম, যা বিবর্তনীয় ইতিহাসের পথে অন্যান্য জীবের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। এর সন্ধানেই সাম্রাজ্যবাদের পেছনে ছোটে দেশ, শাসক বা রাষ্ট্র – তাতে দেশের লাভ হতে পারে, লোকসানও হতে পারে।

মুক্তবাণিজ্যের সমর্থক স্মিথ এরপরে বর্ণনা দিয়েছেন কি ভাবে উপনিবেশের সাথে সুসম্পর্ক রেখে শুধু মুক্ত-বাণিজ্য চালানোই দেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ট্যাক্স-অনুপাতে ভোটাধিকার দিয়ে একটা আন্তর্জাতিক পার্লামেন্ট তৈরীর প্রস্তাবও আছে। সবেমিলে, স্মিথের লেখায় আমি এমন অনেক সামগ্রী পেলাম যা ১৭৭৬ সালে লেখা কোনো বইতে পাব বলে ভেবে দেখিনি। আগ্রহী পাঠকেরা বইটার ফ্রি-পিডিএফ ভার্সান, সংক্ষেপিত যে কোনো ভার্সান বা ওই সংক্রান্ত আর্টিকেল পড়ে দেখতে পারেন। অর্থনীতি নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকলে বলেই দিতে পারি – হতাশ হবেন না।

পড়ে দেখতে পারেন –
১) বইটার পিডিএফ
২) সাম্রাজ্যবাদ দিয়ে লেখার সংক্ষেপ
৩) ইউরোপের কিছু দেশের মাথাপিছু আয়ের গুগল-চার্ট

Advertisements

টাইমে ভারত

জানুয়ারি 11, 2008

টাইম ম্যাগাজিন সম্প্রতি ভারতের স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনেকগুলো লেখা বের করেছে। লেখা গুলো পড়ে ভাল লাগল। ভারতের ভাল-খারাপ দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আর আছে একটা অসাধারণ ফোটো সিকোয়েন্স – যাতে ৬০ বছরের ইতিহাস সংক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রথম লেখাটায় কিছু সমকালীন ভারতীয় স্লোগানের উল্লেখ আছে। কিভাবে সেগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে – “মেরা ভারত মহান” থেকে “মেরা ভারত জওয়ান”। দ্বিতীয় লেখায় আছে দেশ বিভাগের পরে দেশে আসা অসংখ্য রিফিউজির মধ্যে একটি পরিবারের কথা। তারা তিনটে জেনারেশনে কিভাবে আবার দাঁড়িয়ে গেল। তার পরেরটা মূলত পাকিস্তান নিয়ে, কিভাবে লাল মসজিদের ঘটনা আর তার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে গেছে। তার সাথে আছে পাকিস্তানের ইতিহাস। তার পরে আছে ভারতীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কুশল পাল সিং এর কথা – যার কোম্পানী ডি-এল-এফ ভারতের সবচেয়ে বড় রিয়েল এস্টেট কোম্পানী। পাঁচে আছে গণতন্ত্র – এম যে আকবর আর রিজভির কথামত যা ভারতের সবচয়ে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব। ছয়ে আছে ভারতীয় অর্থনীতির পুনরুত্থানের কথা। এখানে একটা ভাল কথা লিখেছে দেখলাম – ভারতকে দীর্ঘ ইতিহাসে কখনই গরীব দেশ বলে মনে করা হত না – মাত্র ২০০ বছরে একটা দেশ কি ভাবে গরিব হয়ে গেল সেটাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই প্রবন্ধে। সাথে আছে চিরাচরিত সফটওয়ার শিল্পের কথা। শেষে আছে কিছু ব্যক্তির বক্তব্য।

লেখার ধারা বেশ ভাল। আমি মোটামুটি পাকিস্তান সংক্রান্ত অধ্যায়টা ছাড়া বাকি সবই পড়েছি। লেখায় গত ৬০ বছরের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে – আর আশা ব্যক্ত করা হয়েছে যে ভারত আবার পুরোনো ইতিহাসের মত দিনে ফিরে যাবে।

মূল লেখা
ফোটো ব্লগ
পরিসংখ্যানে ভারত

দক্ষিণ কোরিয়া বনাম দক্ষিণ এশিয়া

জানুয়ারি 11, 2008

দক্ষিণ এশিয়া গত পঞ্চাশ বছরে কতটা পিছিয়ে গেছে তা সবাই মনে রাখে না। কিন্তু কিভাবে অন্যেরা এগিয়ে গেছে তা সত্যিই বিস্ময়কর।

ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে ৯% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরকম পঞ্চাশ বছর চলতে পারলে দেশ কোথায় পৌঁছতে পারে তা বোঝা যায় এই তুলনায়। বোঝা যায় কিভাবে আমরা নিজেদের ধোঁকা দিয়ে নিজেদেরই ছোটো করেছি – একটা উদাহরণ দিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া এখন এশিয়ার দ্বিতীয় ধনীতম দেশ (বড় দেশগুলোর মধ্যে)। দেখা যাক তারা কিভাবে এত ধনী হয়ে গেল।

ছবিতে দেখুন নিতান্ত ষাটের দশক অবধি দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আমাদের বিশেষ একটা পার্থক্য ছিল না। কিন্তু ১৯৬২ থেকে ১৯৮৯ অবধি তাদের অর্থনীতি ৮% হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে তাদের মাথাপিছু গড় আয় মাত্র ৮৭ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৮৩০ ডলারে।

একটা প্রবন্ধে সেদিন পড়লাম ওদের ‘সাক্সেস স্টোরি’। মূল কারণ বলা হয় চারটি –
১) ভাল সরকার, শিক্ষা আর পরিকাঠামোমুখী নীতি।
২) জাপান ও আমেরিকার সাহায্য।
৩) শিল্পক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার
৪) শক্তিশালী প্রাইভেট সেক্টর

আমার এতসব লেখার লক্ষ্য একটাই। যারা মনে করেন পুঁজীবাদী ব্যবস্থা খারাপ আর এই ব্যবস্থায় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটে না, তারা কিভাবে এর ব্যাখ্যা দেবেন? মানুষের উন্নতি কি অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া সম্পূর্ণ হয়?

তাছাড়া আমাদের কলোনিয়াল হ্যাংওভারের কারণে আমরা বিদেশী পুঁজী ভয় পাই। দক্ষিণ কোরিয়া বিদেশ থেকে পুঁজী বা প্রযুক্তি দুই-ই নিয়ে দেশ গঠন করেছে। তাতে তাদের কি সার্বভৌমত্বের ক্ষতি হয়েছে?

মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশগুলোর নীতি-নির্ধারকের সেটা মাথায় রেখে নীতি নির্ধারণ করেন না। কবে যে সুদিন আসবে এখানে …

বেনজির হত্যা

জানুয়ারি 11, 2008

(লেখার মতামত আমার ব্যক্তিগত – ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটির সদস্য হিসাবে ও পাকিস্তানে সংবাদপত্র নিয়মিত পড়ার কারণে আমার নিজস্ব ধারণা থেকে লেখা)

আমার মনে হয়না তালিবানি জঙ্গী ছাড়া বেনজিরের হত্যা আর কেউ করেছে – পর্দার পেছনেও আর কারো স্থান পাওয়াও মুশকিল। মুশারফ যতই বলুন, এই ঘটনায় সবথেকে বড় ক্ষতি তার নিজেরই হয়েছে – তাই আমার মনে হয়না এত বোকার মত কাজটা করিয়েছে।

তালিবানিরা আগে থেকেই ঘোষণা করেছিল যে মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান তারা কিছুতেই মেনে নেবেন না কারণ তা ইসলাম-বিরোধী। আর বেনজির দেশে ফেরার চেষ্টা করলে তাকে একই কারণে হত্যা করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট হলে বেনজিরের জয় সুনিশ্চিত ছিল। সুতরাং ওই জঙ্গী-গোষ্ঠীরাই এটা সরাসরি কারো মদত ছাড়াই এই কাণ্ড করিয়েছে বলে আমার ধারণা।

অনেকেই বলে থাকতে পারেন যে এই গোষ্টীগুলোর এত দাপট কি ভাবে যদি না এদের পেছনে কারো মদত থেকে থাকে। মদতের কথায় পরে আসা যেতে পারে, তবে আপাতত বলে রাখি এদের শক্তি সম্পর্কে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিছুদিন আগেই খবরে প্রকাশ যে বেশ কিছু পাকিস্তানি আর্মি কম্যান্ডারও এদের পেছনে আছে। এমনকি, বার-দুয়েক, পাকিস্তানি আর্মির সৈন্য নিজে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে তার সহকর্মীদের মেরে ফেলার ঘটনাও সামনে এসেছে। সুতরাং, জন-সমর্থনের প্রশ্নে এদের খুব একটা সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। এর পরে আসে, অস্ত্র-সমর্থনের প্রশ্ন। যেহেতু পাকিস্তানি আর্মির একাংশ এদের সাথে জড়িত তাই সে বিষয়েও এদের কোনো সমস্যা নেই।

উত্তর-পূর্ব পাকিস্তান আর বালুচিস্তানে আছে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত এক দল তালিবানি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তান সরকার থেকে এই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা কখনই শাসন করার চেষ্টা করা হয়নি। ফেডারাল ট্রাইবাল ল এর সমর্থনে, এই ওয়াজিরিস্তান অঞ্চল সর্বদাই “স্বাধীন” ছিল। তাই যখন পাকিস্তান আর্মি তাদের অঞ্চলে জঙ্গী খোঁজার নামে হামলা শুরু করল তারা সেটাকে তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করা শুরু করল। শুধু তাই নয়, ৯/১১ পরবর্তী পাকিস্তানে তিন ধরনের দল তৈরী হল। এক দল দেশ থেকে যে কোনো মূল্যে তালিবান ও জঙ্গীবাদ দূর করা পক্ষে, একদল বাস্তবসম্মত ভাবে আমেরিকার সাথে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করত আর শেষ আরেকদল যে কোনো মূল্যে আমেরিকা বিরোধিতা করতে প্রস্তুত। তাদের সমর্থন আর বিপক্ষের দল তৈরী হল পাকিস্তানে আর শুরু হল আইডিওলজিকাল কনফ্লিক্ট। যেহেতু পাকিস্তানে লোকের হাতে বন্দুকের অভাব নেই, তাই অচিরেই এই বিবাদ গলা ছেড়ে বন্দুকের আওয়াজে নেমে এল। বেনজির প্রথমদলের সমর্থক ছিলেন বলে, এই বিবাদ-কেই শর্ট টার্মে বেনজিরের হত্যার কারণ বলে চিহ্নিত করা যায়।

এবারে আসা যাক তুলনামূলক গূঢ় কারণে। আমি প্রথমে আমেরিকার ভূমিকায় আসি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পেছনে লাগার জন্য আমেরিকা আশির দশকে ব্যবহার করত এই তালিবানিদের। আমেরিকা থেকে আসা ও রাশিয়ানদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রবলে এরা বলীয়ান – সাথে আছে গরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং যা আমেরিকানরা দিয়ে গেছে। আপাতদৃষ্টিতে এদের মৌলবাদী বলে মনে হলেও এরা এরকম মৌলবাদী ছিল না – আমেরিকা আর সি-আই-এ ‘নাস্তিক’ কমিউনিস্টদের আটকানোর জন্য যে ট্রেনিং ক্যাম্পগুলো তৈরী করেছিল, তাতে এদের মৌলবাদীত্বে দীক্ষিত করা হয়েছে। আমার এই ধারণার কারণ ভারতে (বিশেষত কোলকাতায়) বসবাসরত আফগান আর পাশতুনরা। এদের মধ্যে একজনও কোনো মৌলবাদী ধারণায় উদ্বুদ্ধ নয় – বরং শান্তিপূর্ণ ভাবে জীবন-যাপণ করে – আর দশজন বাঙালীর মতই। একই জনগোষ্ঠীর লোকে যদি আরেক জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে, তবে মূল জনগোষ্ঠীকে কিভাবে মৌলবাদী বলা চলে?

সবশেষে আসা যায় পাকিস্তানের ইতিহাসের দিকে। স্বাধীনতার পর থেকেই যেহেতু (পশ্চিম) পাকিস্তান প্রায় সংখ্যালঘু-শূন্য হয়ে পড়ে – তাই রাজনীতিকরা দলাদলি করার জন্য আবার বেছে নেন ধর্মকেই। শুরু হয় কে কতটা বেশী ধর্মপরায়ণ – তার ভিত্তিতে দলাদলি। প্রথম ধাপ হিসাবে দলাদলি শুরু হয় আহমদিয়া (কাদিয়ানি) দের নিয়ে। সময় যত এগোয়, কাদিয়ানিরা একরকম এক-কোণে আশ্রয় নেয়। এদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন জিয়া। উনি, আইন করে কাদিয়ানিদের মসজিদ বানানো বন্ধ করে দেন, আর পাকিস্তানের ইসলামিক পাসপোর্ট পাবার জন্য কাদিয়ানি নবীকে ‘ইমপোস্টার’ হিসাবে ডিক্লারেশন দেওয়া বাধ্যতামূলক করে দেন (বলাই বাহুল্য – এখনো এই আইনগুলোর পরিবর্তন হয়নি)। এই জিয়ার আমলেই পাকিস্তানের আইডিওলজিকাল পার্টিশন নিশ্চিত হয়। কাদিয়ানিদের কফিনে পেরেক পোঁতা শেষ হলেও দলাদলি শেষ হয় না। রাজনীতিকরা শুরু করেন পরবর্তী পার্টিশন – সূফী বনাম তালিবানি। একই সময়ে, আশির দশকে প্রচুর আফগান পাকিস্তানে রিফিউজি হিসাবে চলে আসে, যারা এই তালিবানি ঘরাণাকে পাকিস্তানে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

একরকম ভাবে দেখলে আমার ব্যক্তিগত মতে, পাকিস্তানে এই আইডিওলজিকাল পার্টিশন হবারই ছিল। পারিপার্শ্বিকতা তাকে হয়ত ত্বরান্বিত করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করলে সব সময়েই নিজেকে বেশী ধার্মিক দেখিয়ে বেশী সুবিধা অর্জনের প্রচেষ্টা জনগণের মধ্যে দানা বাঁধে। আর জনগণ যদিও বা দূরে থাকতে চায়, তাদের ব্যবহার করার মত রাজনীতিকের অভাব হয় না কখনই। আর সেই আইডিওলজিকাল পার্টিশন এখন পূর্ণোদ্যমে একের পর এক প্রাণহন্তারক হামলার আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে – এ তো হবারই ছিল।

এখন যদি মুশারফ সরে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রও আসে, আমার মনে হয়না একদিনে সমস্যার সমাধান হবে। অন্তত, বিশ বছর গণতন্ত্রে থাকলে যদি বা কিছু পরিবর্তন হয়। গণতন্ত্রের একটা সুবিধা হল এতে একটা প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যায় যাতে লোকে ধৈর্য ধরতে শেখে, আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ-মীমাংসা শেখে আর দেশের অন্যপ্রান্তে জন-মতামত সম্পর্কে ধারণা করতে শেখে। এই তালিবানি জঙ্গীরা যদি জানত যে দেশের অধিকাংশ মানুষ তাদের আসলে পছন্দ করে না, তবে হয়ত অনেকেই অস্ত্রের পথ ছেড়ে দিত – ব্রেনওয়াশ করাও শক্ত হত। লোকে সামরিক শাসনে ধৈর্য না হারিয়ে ভোটের জন্য ৫ বছর অপেক্ষা করতে শিখত। তাই পাকিস্তানের এই বিবাদ থেকে মুক্তির একটাই পথ – গণতন্ত্র।

বিজয় দিবসে ভারতীয় শুভেচ্ছা

জানুয়ারি 11, 2008

বিজয় দিবস নিয়ে সবাই লিখছে বলে ভারতীয় হিসাবে আমারো কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে, কিছু ভারতীয়র অবদান বাংলাদেশের আপামর জনগণের জানা উচিত বলেই আমি মনে করি। বিজয় দিবসে বাংলাদেশের মত ভারতেও বেশ কিছু শহিদের কথা স্মরণ করা হয় – বিশেষত যারা ১৯৭১এর যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন। ১৯৭১ এর যুদ্ধ শুধু বাংলাদেশ প্রান্তরেই হয়নি, হয়েছিল কাশ্মীর আর পাঞ্জাব সীমান্তেও। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পাশাপাশি কাশ্মীরেও অনেক অংশ হস্তান্তরিত হয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তারই মধ্যে একটি শহর হল কারগিল – যা নিয়ে পাকিস্তানের সাথে ১৯৯৯ সালে আবার একটি যুদ্ধ হয়।

যাহোক, আসা যাক প্রথম শহিদ এলবার্ট এক্কার কথায়। এক্কা রাঁচির আদিবাসী খ্রীষ্টান পরিবারের সন্তান। ২০ বছর বয়সে উনি যোগদান করেন ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্টে ১৪ গার্ডস সেকশনে। ১৯৭১ এর যুদ্ধের সময়ে উনি গঙ্গাসাগর (আগরতলা থেকে সাড়ে ৬ কিমি দূরে) সীমান্তে প্রহরারত ছিলেন। চৌথা ডিসেম্বর অর্ডার আসে শত্রুবাহিনীর বাংকার দখল করতে হবে। ভোর চারটের সময় শুরু হয় যুদ্ধ। উলটো দিকে পাকিস্তানী সৈন্যরা গুলিগোলা চালাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুসারে, সাথে বন্দুক থাকলেও বন্দুকের ব্যবহার ছিল সীমিত, কারণ বন্দুক চালালে সব বাংকারের লোক একসাথে জেনে যাবে কোথা থাকে শত্রু আক্রমণ করছে। বুকে ভর দিয়ে মাটিতে ঘষটে ঘষটে দেড় কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে একের পর এক বাংকারে শত্রুকে উনি বেয়নেটবিদ্ধ করেন। শেষে, যখন অধিকাংশ বাংকার করায়ত্ত, তখন পাশের একটি বড় বিল্ডিং থেকে শুরু হয় লাইট মেশিন-গানের বোমাবর্ষণ। গুরুতর রক্ম আহত হন এক্কা। উনি বাধ্য হয়ে গ্রেনেড ছুঁড়ে শত্রুকে ঘায়েল করেন এবং অসীম সাহসের সাথে দেওয়াল ডিঙিয়ে বিল্ডিং-এ ঢুকে তার মেশিন-গান চুপ করিয়ে দেন। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাণ হারা এক্কা।

গঙ্গাসাগরের পতনের ফলে ভারতীয় সেনারা ওই পথে দ্রুত ঢুকে পড়ে যা বিজয় ত্বরাণ্বিত করেছে। পরে, মরণোত্তর পরম বীর চক্র দিয়ে এক্কাকে সম্মান দেওয়া হয়। রাঁচী শহরের কেন্দ্রস্থলের নাম রাখা হয় এক্কা চৌক।

পরম বীর চক্র ভারতের সৈনিকদের সর্বোচ্চ সম্মান। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে চারজন এই সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এক্কা একজন। বাকি দুজন পাঞ্জাবে (অরুণ ক্ষেত্রপাল আর হুঁশিয়ার সিং) আর একজন (নির্মলজিত সিং শেখোঁ) কাশ্মীরে যুদ্ধের সময় বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।

এতো গেল সাহসিকতার কথা, এরপরে আসা যাক যুদ্ধের পরিকল্পনা ও কৌশলের কথায়। মুক্তিযোদ্ধাদের গরিলা কায়দায় যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেবার কৌশল যার – তিনি হলেন জেনারেল জ্যাকব। কোলকাতার ইহুদী পরিবারে জন্ম এই সেনানায়কের। ভারতীয়রা তখন গেরিলা কায়দায় যুদ্ধের কৌশলের সাথে পরিচিত ছিল না। ইনিই ভারত সরকার আর সেনাপ্রধানকে বুঝিয়ে রাজী করিয়েছিলেন ট্রেনিং ক্যাম্প বানাতে। যুদ্ধোত্তর ভারতে ১৯৭১ এর বিজয়ের জন্য একেই সবথেকে বেশী কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ইনি পরবর্তীকালে বিজেপি তে যোগদান করেন ও ইজরায়েল-ভারত সম্পর্ক স্থাপনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

আর ছিলেন ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ। পাঞ্জাবী পার্সী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই সেনানায়কও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্তন সেনানী। যুদ্ধের সঠিক দিনক্ষণ নির্ধারণে মানেকশর জুড়ি মেলা ভার ছিল। যুদ্ধের স্থায়ীত্ব কমিয়ে আনার জন্য এবং পাকিস্তানী বাহিনীর দ্রুত আত্মসমর্পণের কৃতিত্ব অনেকটাই এর প্রাপ্য।

আর যার কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন জেনারেল অরোরা, সেনাপ্রধান। এর ছবি দেখে অনেকেই অভ্যস্ত, আত্মসমর্পণরত নিয়াজীর সাথে। মজার কথা হল, এই জগজিত সিং অরোরার জন্ম হল অধুনা পাকিস্তানের ঝীলমে – এক ধার্মিক শিখ পরিবারে। ১৯৭১ এর যুদ্ধশেষে এঁকেও বাংলাদেশ সরকার বীরপ্রতিক উপাধীতে ভূষিত করেন। অরোরা ছিলেন কম কথার কিন্তু ক্ষুরধার বুদ্ধির ধর্মভীরু মানুষ। পরবর্তীকালে অমৃতসরে স্বর্ণমন্দিরে সেনা হামলার পরে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সমালোচনা করতেও দ্বিধাগ্রস্ত হননি। অরোরা অকালি দলের হয়ে ভারতে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিও ছিলেন। গত ২০০৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারত – উভয়েই তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩৫ বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু আমার মনে হয় এখনও ভারতে এই যুদ্ধ ভারত-পাক যুদ্ধ বলেই বেশী খ্যাত আর যুদ্ধে স্মরণীয় হয় সৈন্যরাই। মনে রাখা হয়না বীর বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধাদের বা গণহত্যার শিকার ৩০ লক্ষ বাঙালীকে। আর বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ হলেও মৃত ভারতীয়দের জন্য কোনো অনুষ্ঠান হয় না। অথচ উভয় দেশের জন্যই স্বাধীনতা সংগ্রাম ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল, যা হয়ত একে অপরের সাহায্য ছাড়া অর্জন করা অনেক কঠিন হত।